হ্যাকিং নিয়ে সবার মনেই কম বেশী আগ্রহ আছে। দিন দিন যেমন পৃথিবী আধুনিক হচ্ছে সাথে সাথে বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। সাধারন মানুষ রা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিন্তু হ্যাকার রা সেই প্রযুক্তির ভেতরে থাকা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে। অনেকে হ্যাকিং শিখতে আগ্রহী। তাদের জন্য আমার নতুন পর্ব HACKOLOGY। আজ হ্যকিং নিয়ে টিউটোরিয়াল নয় বরং হ্যাকিং এর কিছু নিগুঢ় সত্য , হ্যাকিং কি , হ্যাকারদের রুজিরুটি ও হ্যাকারদের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করবো। So Let’s Start……
HACKOLOGY PART-1
প্রথমে বলে নিই আমি আপনাদের হ্যাকিং শিখাতে পারবো না । শুধু আমি কেন পৃথিবীর কোনো মানুষ-ই আপনাদের হ্যাকিং শিখাতে পারবে না । কেননা হ্যাকিং কোনো বই না যেটা আপনারা মুখস্ত করতে পারবেন । কিংবা কোনো কোর্স নয় যে আপনি চাইলেই একবারে শেষ করতে পারবেন । হ্যাকিং শিখতে হলে আপনাকে তা নিজে থেকে শিখতে হবে । হ্যাকিং নির্ভর করে আপনার সৃজনশীলতার উপর কেননা হ্যাকিং তখন-ই সংঘটিত হয় যখন তা আপনি আপনার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে করবেন । অর্থাৎ হ্যাকিং আপনার বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ মাত্র । হ্যাকিং শেখার কোনো শেষ নেই কারন ১০ বছর আগে যেমন ভাবে হ্যাকিং করা হতো তার পদ্ধতি এখন পাল্টেছে । এমনকি প্রতিনিয়ত তা পরিবর্তন হচ্ছে । তাই হ্যাকারদেরও সাথে সাথে পরিবর্তন করতে হয় তাদের পদ্ধতি । তাদেরও সিস্টেম এর সাথে সাথে আপডেট হতে হয় । তাই কেউ-ই আপনাকে হ্যাকিং শিখাতে পারবে না যদি আপনি না শিখেন । আমি শুধু মাত্র আপনাদের ব্যাসিক কিছু পদ্ধতি দেখাবো যে কিভাবে হ্যাকিং শুরু করতে হয় । সেই পদ্ধতি তে আপনার সৃজনশীলতার মাধ্যমে পরিবর্তন এনে আপনাদের ব্যসিক থেকে অ্যাডভান্স হতে হবে । অর্থাৎ It’s Totally Depends On You ....
#হ্যাকার কারা??
যারা নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নতুন কিছুর সৃষ্টি করে , নতুন কিছু করার চিন্তাধারা যার আছে , কোনো কিছু কে নিজের মতো পরিবর্তন করার ক্ষমতা কেই হ্যাকিং বলে । আর যারা এটি করে তারাই হ্যাকার । শুধুমাত্র কোনো ওয়েব সাইট হ্যাক করলেই হ্যাকিং নয় আরো অনেক কিছুই রয়েছে যা হ্যাকিং এর তালিকায় রয়েছে । বাস্তব জগতেরও কিছু কাজ রয়েছে যা আমরা Life Hack নামে পরিচিত । আরেকটু পরিষ্কার করে যদি বলি তাহলে উদাহরন স্বরূপ আপনি যদি আপনার বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে কোনো সাইটের এডমিন প্যানেল এ ঢুকতে পারেন তাহলে সেটা হ্যাকিং বলে গন্য করা হবে । আবার এখন যদি আপনি বাসায় বসে একটি রেডিও ট্রান্সমিটার তৈরী করেন তবে তাও একধরনের হ্যাকিং বলে গন্য করা হবে কিংবা বাসায় পড়ে থাকা জিনিস গুলো দিয়ে কার্যকরি কোনো জিনিস তৈরি করেন সেটাও হ্যাকিং এর তালিকায় পড়বে কেননা এগুলো লাইফ হ্যাক এর অংশ । কিন্তু মূলত আমরা যে হ্যাকিং সম্পর্কে এখানে জানবো সেটা ইন্টারনেট Based । লাইফ হ্যাক শুধু জানার জন্য বলেছি । কারন বাংলাদেশে অনেকে ফেসবুক আইডি এক্সেস নেওয়া কে হ্যাকিং বলে গন্য করে । কিন্তু মূলত এটি হ্যাকিং এর কোনো অংশ নয় ।
#হ্যাকিং শিখে আয় করা যাবে??
এই প্রশ্নটা করা অনেকটাই বোকামির পরিচয় দেওয়া । কেননা এখন সবকিছু উন্নত হচ্ছে । সবকিছুতেই প্রযুক্তির ছোঁয়া । এই প্রযুক্তি যেখানে রয়েছে সেখানে হ্যাকিং রয়েছে । কারণ যে সকল ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস-এ প্রসেসর রয়েছে সেগুলো অবশ্যই হ্যাক করা সম্ভব । এবার এখানে ২টি পথ রয়েছে আয় করার, এক হলো আপনি হ্যাক করে আয় করবেন যা সম্পূর্ণ বেআইনি আর দুই আপনি ওই সকল ডিভাইস কে হ্যাকিং হতে রক্ষা করে আয় করবেন যা বৈধ । বাংলাদেশ যদিও অন্যান্য দেশের তুলনায় কম উন্নত বা এখনো উন্নয়নশীল তাই প্রযুক্তি এখনো ততোটা নিজের জায়গা বানাতে পারে নি । তারপরও প্রযুক্তি খাতে যেরকম অভিজ্ঞ কর্মচারী প্রয়োজন তার অনেকটাই অভাব রয়েছে এই দেশে । আর এজন্য আমাদের জাতীয় ব্যাংক থেকে হ্যাকিং এর মাধ্যমে এত টাকা চুরি হবার পরও আমরা এখনো তা ফিরিয়ে আনতে পারিনি । এজন্য আমাদের অন্য দেশ থেকে কর্মচারী আনতে হয় । তাই হ্যাকিং শিখে আর যাই হোক আপনাকে বেকার থাকতে হবে না । অনেকে বলবেন আপনি যদি এতোই জানেন তবে নিজে কতো টাকা আয় করেছেন?? তাদের জন্য , আমি টাকার জন্য কাজ শিখি না ,কাজ শিখি কারন সেই কাজ আমার ভালো লাগে । আর আপনার যোগ্যতা থাকলে অবশ্যই টাকার অভাব হবে না হয়তো আমার সেই যোগ্যতা এখনো হয় নি তাই সাফল্যের ছোঁয়া এখনও পাই নি ।
ধরুন এবার আপনার ইচ্ছা হলো হ্যাকার হবেন ঠিক আছে এখন কি রকম হ্যাকার হবেন? মানে হ্যাকার দের ও প্রকারভেদ রয়েছে । যেহেতু ব্যাসিক থেকে শুরু করবো তাই চলুন জেনে নেই হ্যাকারদের প্রকারভেদ সম্পর্কে ।
তার আগে
এতটুকু পড়ার পর যদি আপনার মনে হয় আপনি পারবেন তাহলে বাকী অংশ টুকু পড়ুন । মনে নাহলেও পড়েন, জেনে রাখতে দোষ কি??
হ্যাকাররা মূলত ২ ধরনের হয়ে থাকে।
১. White Hat Hacker : যারা সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে কিন্তু সিস্টেম এর কোনো ক্ষতি করে না তারাই সাদা টুপি হ্যাকার । তবে তারা সেই সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করার পদ্ধতি যা বাগ (BUG) নামে পরিচিত সেটা ঠিক করে দিয়ে সেই সিস্টেম এর মালিক এর কাছ থেকে সেই কাজের পারিশ্রমিক নেয় । সাদা টুপি হ্যাকার রা সমাজে এখন বৈধ । এরা ইথিক্যাল হ্যাকার নামেও পরিচিত ।
২. Black Hat Hacker : যারা সিস্টেমে অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ করে এবং সিস্টেম এর ক্ষতি করে তারা কালো টুপি হ্যাকার । এরা সিস্টেম এর মালিককে ব্ল্যাকমেইল করার মাধ্যমে টাকা আয় করে । কালো টুপি হ্যাকার রা সমাজে অবৈধ । এরা সমাজে ঘৃণ্য । এদের কাজের জন্য কখনো কখনো আইনি ঝামেলাও পোহাতে হয় এদের । কালো টুপি হ্যাকারদের মধ্যে বেশির ভাগ-ই খারাপ উদ্দেশ্যের হয়ে থাকে ।
এটাতো বললাম প্রধান হ্যাকারদের নিয়ে আবার এরা ছাড়া আরো কিছু হ্যাকার রয়েছে । যেমন :
১. Grey Hacker : ধূসর টুপি হ্যাকার রা সাদা ও কালো টুপি হ্যাকার এর মাঝামাঝি অর্থাৎ এরা প্রয়োজনে সিস্টেম এর ক্ষতিও করে আবার প্রয়োজনে ধুয়া তুলসীর পাতার মতো সিস্টেম এর মালিককে তা জানায় । সোজা বাংলায় এরা কখনো গল্পের হিরো তো কখনো ভিলেন । তবে ধূসর টুপি হ্যাকার খুব কম-ই দেখা যায় বা রয়েছে ।
২. Script Kiddies : হ্যাকার নামের কলঙ্ক হলো এই দলভুক্ত মানুষগুলো । এরা নিজে কিছুই পারে না তারা অন্যের টুল অন্যের স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে এবং নিজেদের হ্যাকার নামে পরিচয় দেয় । মূলত হ্যাকারদের নাম কুলসিত করে এরা । বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে ট্রিক নিয়ে সেগুলো ব্যবহার করে । আর যদি মনে করেন একবার ভুলক্রমে সফল হয় তবে তো গলা ফাটিয়ে নিজের পরিচয় দিবে হ্যাকার হিসেবে । এদের সাথে যদি আমরা আমাদের সোশ্যাল সাইট গুলোর স্প্যামারদের যদি তুলনা করি তাহলে হয়তো তেমন বেশী ভুল হবে না ।
৩. Noobies : এই দলভুক্ত হ্যাকাররা অনেক নিরীহ হয়ে থাকে । এদের হ্যাকার বললেও ভুল হবে কেননা এরা মাত্র শিখছে । তো আপনি যদি হ্যাকিং শেখা শুরু করে দেন তা হলে নিজেকেও এই দলভুক্ত করতে পারেন ।
তো এই ছিল হ্যাকারদের শ্রেনীবিভাগ তবে আরো অনেক রয়েছে কিন্তু এইগুলোই প্রধান । অনেকতো হ্যাকারদের সম্পর্কে শুনলেন এবার এমন একটি দলের কথা বলবো যাকে আপনি চাইলে হ্যাকার দের পদবীও বলতে পারেন তবে প্রচলিত ভাবে একে হ্যাকারদের একটি দল-ই বলে ।
#Anonymous
এনোনিমাস বলতে বোঝায় নাম ও পরিচয় বিহীন ব্যাক্তি-কে । হ্যাকিং করতে গিয়ে অনেক সময় অনেক আইনের ঝামেলায় পরতে হয় । এগুলো এড়াতে এনোনিমাস হতে হয় । কেননা হ্যাকার এর পরিচয় না জানলে তাকে চিহ্নিত করবে কিভাবে?? যিনি প্রকৃত হ্যাকার তিনি কখনোই চিৎকার করে বলবেন না যে তিনি একজন হ্যাকার । কারণ ইথিক্যাল হ্যাকার যতোই বৈধ হোক না কেন কেউ বলতে পারবে না তার বিপদ কোন দিক থেকে আসবে । হ্যাকিং করার চাইতেও কষ্ট হলো এনোনিমাস হওয়া । যারা হতে পারে না তাদের আজ হোক কিংবা কাল হোক কারাগারে যেতেই হবে । তাই আপনার এনোনিমিটি আপনার সুরক্ষার ব্যাপার ও বটে । যদি এই অনলাইনের জগতে আপনার আসল পরিচয় পুরোপুরি ভাবে লুকাতে পারেন তবেই প্রকৃত এনোনিমাস হতে পারবেন ।
তো আর কী বলবো এবার সিদ্ধান্ত আপনার উপর আপনি কি হবেন ?? তবে হ্যাকার মানে এই না যে আপনি অন্যের ক্ষতি করবেন । অন্যকে সুরক্ষাও দিতে পারেন । তার বিনিময়ে হয়তো পারিশ্রমিক কিছুটা কম পাবেন কিন্তু সাথে জীবনের ঝুঁকি টাও কম থাকবে । তবে আমার পরামর্শ হবে , নিজে যাই হোন স্ক্রিপ্ট কিড্ডি হইয়েন না । অন্তত সম্মান টুকু পাবেন । অনেকে ভাবতে পারেন আমি একজন হ্যাকার কিন্তু ভাই আমি কোনো হ্যাকার নই । হতে এখনো অনেক বাকি । নিত্যান্ত বলতে পারি আমি একজন নুব বা শিক্ষার্থী । আমি যা পারি তাই আমার ব্লগে শেয়ার করি । আমার লেখা গুলো পড়ে আর যাই হোক অন্তত নিজের সুরক্ষা নিজে দিতে পারবেন । অন্যের পায়ে হাতে ধরতে হবে না এ নিয়ে । তো আজ আর কথা বাড়াবো না । ধন্যবাদ
KEEP SUPPORTING US


Post a Comment
Share Your Thoughts About This Post. Your Comments Will Inspire Me.