Hackology- হ্যাকিং বিদ্যা part-2



আমরা প্রতিনিয়ত হ্যাকিং এর বিষয়ে শুনতে পাই। অনেকের মনে ইচ্ছা জাগে হ্যাকার হওয়ার। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ জানে ই না যে হ্যাকিং কী?? সবাই ভাবে মুখে মাস্ক পরে ছবি ফেসবুক প্রোফাইল এ আপলোড দিলাম আর হ্যাকার হয়ে গেলাম। নাহ ভাই এত সোজা না। গত পর্বে হ্যাকার নিয়ে বলেছি আজ হ্যাকিং মেথউড নিয়ে আলোচনা করবো।

গত পর্বের লিংকঃHackology-হ্যাকিং বিদ্যা part-1

তো হ্যাকিং মেথউড নিয়ে বলতে গেলে অনেক কিছু আছে। কিন্তু এখানে পপুলার কিছু নিয়ে আলোচনা করবো। তবে এটা মনে রাখবেন হ্যাকিং কোনো কপি পেস্ট অথবা মুখস্ত বিদ্যার কাজ নয় এটি সম্পূর্ন নির্ভর করে আপনার উপর সহজ কথা সৃজনশীলতা।


১. ফিশিং

নাম শুনেই মনে হয় মাছ ধরার কথা। আসলে এটার কাজও এরকম। আপনি আপনার ভিকটিম কে টোপ দিবেন যদি সে টোপ গিলে তাহলেই কেল্লাফতে। মানে আপনাকে আমার তৈরী করা ফেসবুক এর লগ ইন পেজ এর লিংক দিলাম আর বললাম "এই লিংক এ লগ ইন করলে ৫০০০ লাইক পাবে প্রতি পোস্টে আপনি। এখন লগ ইন করলেই আপনার আইডির পাসওয়ার্ড আমার কাছে চলে আসবে। মূলত একেই ফিশিং বলে।
আমার বানানো ফিশিং লিংকঃ

২.ডিভাইস এক্সেসঃ

ধ্রুন আপনার মোবাইল আপনার কাছেই কিন্তু আমি  আপনার থেকে ১০০০ কি:মি: দূরে বসেও আপনার মোবাইল থেকে সব তথ্য আপনার অজান্তেই নিয়ে নিচ্ছি। একেই বলে ডিভাইস এক্সেস। আপনার ডিভাইস আপনার কাছেই কিন্তু তা ব্যাবহার করছি আমি।

৩. হ্যাকিং কী-বোর্ড

হ্যাকিং কী-বোর্ড আসলে কিছুই না। কেউ আপনার ডিভাইস এ একটি এপ/সফটওয়্যার ইন্সটল করলো লুকিয়ে এখন। আপনি যা টাইপ করবেন তা সেই এপ/সফটওয়্যার এ Text ফাইল আকারে জমা হবে। তো পরে সে লুকিয়ে সেগুলো দেখতে পাবে। কিন্তু এটা অনেক টাই কষ্টদায়ক এবং সময় সাপেক্ষ।

৪. ব্রুট ফোর্স আট্যাক:

এই পদ্ধতিতে একের পর এক সংখ্যা ও অক্ষর মিলিয়ে তা পাসওয়ার্ড হিসিবে লগ ইন করতে চাইবে। একটা ভুল হলে অন্যটা ব্যাবহার করবে। এভাবে চলতে থাকবে। এভাবে একসময় হয়তো মিলবে মেইন পাসওয়্যার্ড কিন্তু তা করতে যুগ যুগ সময় চলে যেতে পারে। কিন্তু টেনসন নিয়েন না হ্যাক হবে।

৫. ডিকশোনারি আট্যাক

এটাও ব্রুট ফোর্সের মতো তবে এখানে আপনি একটি Text ফাইল আপলোড করবেন যেখানে আপনার ভিকটিম এর সাম্ভাব্য সকল পাসওয়্যার লিখে রাখবেন। এবং সিস্টেম এগুলোকে একের পর এক পাসওয়্যার্ড হিসেবে নিয়ে লগ ইন করতে চাইবে। সময় এখানে নির্ভর করে পাসওয়্যার্ড সংখ্যার উপর।


৬. DOS আট্যাক

ডস(ডেনিয়াল অব সার্ভিস) মানে কোনো ওয়েব সাইটকে কিছু সময় এর জন্য ডাউন করে দেওয়া। ধরুন আপনার ওয়েব সাইট এর ডেইলি Bandwidth 1gb & HiTs 10000 এখন আমি যদি ফেইক 25000 ক্লিক দেই একসাথে আপনার সাইটে তাহলে আপনার সাইট কিছুক্ষনের জন্য ডাউন/ বন্ধ হয়ে যাবে। মূলত এটাই ডস আট্যাক।


৭. IP-HACK

আপনি কাউকে বললেন "ভাইয়া আপনার আইপি টা দেন তো!!" সে কি আপনাকে দিবে?? অবশ্যই না। এখন আপনি তাকে একটা লিংক দিলে বললেন "এখানে ক্লিক করে তোমার আইডিতে ১০০০ লাইক নিতে পারবে কোনো লগ ইন লাগবে নাহ"। এখন সে যদি ক্লিক করে তাহলেই তার আইপি সহ বিভিন্ন তথ্য পাবেন এটাই আইপি হ্যাক।


৮. স্পুফিং

আপনাকে যদি ফেসবুক থেকে মেইল করা হয় যে আপনি আপনার ফেসবুক আইডি ব্লু-ভেরিফাই করতে পারবেন। করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন। আপনি নিসন্দেহে ক্লিক করবেন কেননা এটা ফেসবুক থেকে এসেছে। কিন্তু মেইন লি এটা পাটিয়েছে কোনো হ্যাকার। কিন্তু আপনি দেখছেন এটা পাটিয়েছে ফেসবুক। এটাকেই বলে স্পুফিং।


৯. সেশন হাইজ্যাক

আপনার ব্রাউজারে যে কুকিস জমা হয় তা থেকে আপনার সেভ করা পাসওয়ার্ড জানা যাবে। তবে তা কেবল মাত্র http:// এর ক্ষেত্রে।

১০. Social ইঞ্জিনিয়ারিং

এটার মাধ্যমে চাইলে আপনি সব কিছু হ্যাক করতে পারবেন। কোনো অপরিচিত মানুষের চাইতে আপনার বন্ধুরা নিশ্চই আপনার সম্পর্কে বেশি জানে। সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এটাই। আপনি আপনার ভিকটিম এর মুখ থেকেই সব তথ্য নিবেন।





আজ এতটুকুই। আসলে এগুলো এক পোস্টে বোঝানো সম্ভব না। আমি  এগুলোকে নিয়ে আলাদা আলাদা পোস্ট করবো ভাবছি। তার আগে গুগল এ সার্চ করুন এগুলো নিয়ে সমস্যা হলে কমেন্ট করুন আর অবশ্যই আমার জন্য দোয়া করবেন। আজকের জন্য বিদায়।




Post a Comment

Share Your Thoughts About This Post. Your Comments Will Inspire Me.

To be published, comments must be reviewed by the administrator *

Previous Post Next Post
Post ADS 1
Post ADS 1